Wednesday, 3 July 2019

Shushunia Story

শুশুনিয়ার বুকে সেদিন
                                                                       বাপ্পাদিত্য মুখোপাধ্যায়

Shushunia pahar নিয়ে অনেক লেখা লেখি হয়েছে। আজকে Shushunia pahar এর এক গোপন গভীর গল্প দিলাম। আপনার ভ্রমণ ও গল্পপাঠ দুই হবে এক সঙ্গে।  
Shushunia hill
ShuShunia


আট’মাস মনমরা হয়ে পড়ে থাকে গন্ধেশ্বরী। তারপর যখন বর্ষার মেঘ এসে ডাক দেয় ? তখন আর কে পায় ওকে। সারাদিন কুলকুল। সারারাত রিনঝিন। সেই কোন ছোটবেলায় পিকনিক এসে গন্ধেশ্বরীর তীরে দাঁড়িয়ে প্রথমবার মনে হয়েছিল, নদী কথা বলে। সেই বিশ্বাস আজও রয়ে গেছে। যারা হৃদয়ে রেখেছে নদী তারা হয়তো জানে নদীরও মন আছে।
  আমি আর মিত্রা বাঁকুড়া থেকে সকালের বাস ধরেছিলাম। যখন ছাতনা কামারকুলির মোড়ে নামলাম তখন সবে সুগন্ধ ছড়িয়েছে সকালের চা। বাঁকুড়া থেকে ছাতনা এই দশ কিমি পথের ফাঁকেই বেশ কয়েকবার নজর কেড়েছে দুধসাদা কাশফুলের ঝাড়গুলো। বেশ কয়েকবার চোখে পড়েছে ডাহুক-ডাহুকী।
‘এখান থেকে শুশুনিয়া বাসেই যাব কিন্তু।’ চায়ের ভাঁড়ে চুমুক দিতে দিতেই কথাগুলো বলল মিত্রা। আমি ঘাড় নেড়ে সম্মতি জানালাম শুধু। আমার মন এখন ছুটছে গন্ধেশ্বরীর দিকে। মিত্রাকে গন্ধেশ্বরীর কথা এখনো বলিনি। ওটা সারপ্রাইজ। ও জানে না গন্ধেশ্বরীর গল্প। এই শরতে গন্ধেশ্বরীকে ওর হয়তো মেঘের পালক বলে মনে হতে পারে।

[এক] Shushunia pahar er golpo


শুশুনিয়া পাহাড়ের থেকে প্রায় দেড়-দু কিমি আগেই আমরা বাস থেকে নেমে পড়লাম। এখানের লোক এই জায়গাটাকে নদীঘাট বলে। 
‘এখানে নামলে...’ কথাটা শেষ না করেই হাঁ করে রইল মিত্রা। এখন চোখের সামনে শীর্ণকায় গন্ধেশ্বরী সারা শরীরে শরত মেখে শুয়ে রয়েছে। নদীর দুই পাড় জুড়েও যতদূর চোখ যায় শুধু কাশফুলের মেলা। কাশফুলের দোলা। আমি মিত্রার হাত ধরে নেমে গেলাম নদীটার দিকে। তারপর তরল আয়নার উপর দিয়ে হাঁটতে শুরু করলাম চোখের ইশারায়। কাশফুলের ভিড়ে মনটা এখন ফুরফুর করে উড়ছে সোনালি বুদ্বুদের মতো। আমরা হারিয়ে যাচ্ছি ডাহুক-ডাহুকী।
গন্ধেশ্বরীর জলে পা ডুবিয়ে আমরা যে কতক্ষণ আনমনা ছিলাম নিজেদেরই খেয়াল নেই। শুধু বারবার মনে হচ্ছিল, এই শরত বেলা বিরামহীন ভাবে বইতেই থাকুক আমাদের জীবন স্রোতে। কতবার যে ছোটছোট সোনালি মাছের ঝাঁক আমাদের পায়ে এসে লুকোচুরি খেলে গেছে তার হিসেব নেই। কতবার পথভুলে ভাসতে ভাসতে এসেছে বালিহাঁসের দল। ওরা হয়তো অবাক হয়েছে অনাহূত আগুন্তুক দেখে। বেশ কয়েকাবার পাশের কাশফুল ঝাড়টার উপর এসে বসেছিল একটা মাছরাঙা। বেচারা একটাও মাছ ধরেনি আজ। শুধু অবাক হয়ে দেখেছে আমাদের।
এবার না উঠলেই নয়। পেটের ভেতর খাবারের খোঁজ শুরু হয়ে গেছে। কাশফুলগুলোর নরম শরীরে হাত মাখাতে মাখাতে আমরা হাঁটতে শুরু করলাম শুশুনিয়ার দিকে। এখন মাথার উপরেও সাদা মেঘের পাল রাজ হাঁসের মতো উড়ে যাচ্ছে। বাতাসে পুজোর গন্ধ। নদীর পাড় থেকে উঠে দাঁড়াতেই দুচোখ জুড়ে সবুজ ধানের খেত। ওরা হাসছে হাওয়ায় হাওয়ায়। মেঠো রাস্তা ধরলাম আমরা। মাঝে মাঝেই নিজেদেরকে হারিয়ে ফেললাম তাল-খেজুর-পলাশ বনের ভেতর। কখনো বা কাশ ঝোপের আড়ালে। দূরে কোথাও ‘কিষ্ট খোকা হোক’ পাখি ডাকছে এখন।

‘শিলালিপিটা দেখিও আমাকে। ওটাই পশ্চিমবঙ্গের প্রাচীন শিলালিপি তাই না ?’ আনমনে চলতে চলতেই কথাগুলো বলল মিত্রা। এতক্ষণ চোখে পড়েনি ও কখন খোপায় কাশফুল গুঁজেছে। নীল শাড়ির সঙ্গে কাশফুলগুলো মানিয়েওছে বেশ। প্রেমিক চোখে তাকিয়ে শরতের আকাশ বলে মনে হচ্ছে ওকে।
‘হ্যাঁ শিলালিপিটা খ্রিস্টীয় চতুর্থ শতাব্দীর। চন্দ্রবর্মণের সময়কার। অনেক পুরাতাত্ত্বিক ফসিলও পাওয়া গিয়েছিল শুশুনিয়ায়। সিংহ, জিরাফ, নেকড়ে, হায়না ছাড়াও বেশকিছু নাম না জানা পশুপাখির ফসিল পাওয়া গিয়েছিল শুশুনিয়া থেকে।’
‘সিংহও ছিল শুশুনিয়ায় ? কই আগে কোনওদিন বলোনিতো।’ দুচোখ বিস্ময় নিয়ে কথাগুলো বলে মিত্রা।
‘সে তো বহুকাল আগের কথা। এখন হায়না আর হনুমান ছাড়া হয়তো কিছুই নেই।’
‘আর ঝর্নাটা আছে যে। ওটাই তো মানুষকে টেনে এনে শুশুনিয়ার কোলে দাঁড় করিয়ে দেয়।’
‘হ্যাঁ ওই জলধারাতেও জাদু আছে। প্রাচীন কালের নরসিংহ মূর্তির দুপায়ের মাঝ দিয়ে অবিরাম ঝরছে জলের ধারা। ফিল্টার পর্যন্ত করতে হয় না ওই জল। কয়েক বছর আগে ওই জল সরাসরি প্যাকিং হয়ে মার্কেটে বিক্রি হচ্ছিল। এখন সরকার বন্ধ করে দিয়েছে।’
‘কেন ? বন্ধ করে দিল কেন?’
‘কোম্পানি রাতের বেলায় পাম্প বসিয়ে অনেক বেশি পরিমাণ জল টানত।’
‘ও... তাহলে ঠিকই করেছে।’
‘পরেরবার তোমাকে একজনের বাড়ি নিয়ে যাব।’
‘কার বাড়ি ?’
‘নয়ন দত্ত। পাথর শিল্পের জন্যেই তিন তিনবার রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পেয়েছেন।’
‘তুমি গেছো উনার বাড়ি ?’ পিছন থেকে সামনে এসে আমার আঙুলের ফাঁকে আঙুল রেখে কথাটা জিজ্ঞেস করল মিত্রা।
‘একটা প্রোজেক্টের জন্য একবারই গেছি। উনার বাড়ি না গেলে কত কিছুই অজানা থেকে যেত। পঁচিশ পয়সা মাপের পাথরে দুর্গা প্রতিমা! অথচ আতস কাঁচ দিয়ে দেখলে সরস্বতীর বীণার তারগুলোও পরিষ্কার। তুমি কল্পনাও করতে পারবে না মানুষ কত সূক্ষ্ম কত নিখুঁত কাজ করতে পারে।’
‘চলো না এবারেই ঘুরে আসি। হাতে তো অনেক সময় আছে।’
‘না এবারে হবে না। এবারে শিলালিপিটা দেখাবো। শিলালিপিটা শুশুনিয়া পাহাড়ের পিছন দিকে। শুশুনিয়া এলে প্রত্যেকের অন্তত একবার শিলালিপিটার কাছে গিয়ে দাঁড়ানো দরকার। ওই লিপিটা কয়েকশ বছরের ইতিহাস জানে।’

[দুই] Shushunia pahar


দিনের খাবার খেয়ে আমরা যখন শিলালিপির সামনে এসে দাঁড়ালাম তখন বিকেল গড়িয়ে নামছে। শালগাছের পাতার ফাঁকে ফাঁকে মিষ্টি রোদের ঝলকানি। দুএকটা উদাসী হনুমান ঘোরাফেরা করছে গাছের ডালে ডালে। আমার মতোই মিত্রাও অদ্ভুত ভাবে তাকিয়ে লিপিটার দিকে। তারের খাঁচার ভেতর যেন ঘুমিয়ে আছে চন্দ্রবর্মার সময়। মনে হয় যদি লিপিটার বুকে কান পাতা যায়, হয়তো শোনা যাবে সেই সময়ের ইতিহাস।
‘কী লেখা আছে এই লিপিতে ?’ ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করল মিত্রা।
বললাম, ‘শুশুনিয়ার রাজাকে জমি দান করার কথা। জানি না এই লিপি থেকেই অনেক ঐতিহাসিক কীভাবে বুঝেছিলেন আর্যরা ভারতের পশ্চিম দিক থেকে ভারতে এসেছিল।’
‘আচ্ছা...’ আরও কিছু জিজ্ঞেস করতে যাচ্ছিল মিত্রা কিন্তু ওকে থামিয়ে পাহাড়ের উপর থেকে ‘উঁ-হুঁ-হুঁ-হুঁ’ সুরে ভেসে এলো হাড় হিম করা একটা ডাক। মুহূর্তের ভেতর লাফালাফি শুরু করেদিল গাছের ডালে বসে থাকা হনুমানগুলো। কয়েক’পা লাফিয়ে সরে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরল মিত্রা। ওর কপালে আলতো চুমু খেয়ে বললাম, ‘অনেক উপর থেকে ডাকটা এলো। ভয়ের কিছুই নেই। চলো এবার নিচে নেমে পড়ি।’
‘কীসের ডাক ওটা ? আমার ভীষণ ভয় করছে কিন্তু।’
আমি উত্তর দেওয়ার আগেই আরও একবার ‘উঁ-হুঁ-হুঁ-হুঁ’ সুরে সেই গর্জন নাড়িয়ে দিল পাহাড়টাকে। এবারের গর্জনটা খুব বেশি দূরে নয়। খেয়াল করলাম গাছের ডালে আর একটাও হনুমান নেই। ওরা কখন যেন পালিয়ে গেছে।’
Susunia

  মিত্রাকে কোনও উত্তর না দিয়েই ওর হাত শক্ত করে ধরে দ্রুত নামতে শুরু করলাম পাহাড় থেকে। পাহাড়ের এদিকটা বেশ নির্জন। পাথর খোদাই শিল্পী আর কাঠুরিয়া ছাড়া এদিকে তেমন কেউ আসে না। শিলালিপি দেখতে যারা আসে তারা হয় দল বেঁধে আসে নয়তো সকালের দিকে আসে। বিকেলে আসাটা হয়তো আমাদের ঠিক হয়নি। পাহাড়ের এদিকটাতেই হায়নার আনাগোনা। কিন্তু এই ডাকটা হায়নার নয়। শুশুনিয়া পাহাড়ে নেকড়ে নামমাত্র আছে ঠিকই কিন্তু একেবারে নেই হয়ে যায়নি এখনো। এই নেকড়ের ডাক খুব পরিচিত আমার।
পাহাড় থেকে নেমে যখন রাস্তায় এসে দাঁড়ালাম তখন সূর্য পশ্চিমে ঢলে পড়েছে। খুব বেশি দেরি করলে পাহাড়ের সামনে দিকটাও নির্জন হয়ে যাবে। তাই এই দুকিলোমিটার আর পায়ে হেঁটে নয়। পায়ের পেট্রোলও ওয়ার্নিং দিয়েছে বেশ কয়েকবার।
‘ওটা কীসের ডাকছিল, হায়না ?’
‘না ওটা হায়নার ডাক নয়। কোনও দলছুট নেকড়ে হবে হয়তো।’
আর একটাও কথা বেরল না মিত্রার মুখ দিয়ে। একটা শান্ত অথচ গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেলে আমার হাতটা শক্ত করে ধরল ও। নিজের অজান্তেই আমার নাকমুখ দিয়েও শান্তির শ্বাস বেরিয়ে এলো কিছুটা। অসময়ে এভাবে পাহাড়ের পিছন দিকে আসাটা মোটেই ঠিক হয়নি। একটা বড়সড় বিপদের মুখোমুখি পড়ে যেতাম হয়তো। কিন্তু প্রথমে পাহাড়ের সামনে দিকটা দেখাতে নিয়ে গেলে শিলালিপিটা আজ আর দেখানো হত না ওকে। 
  মিনিট কয়েকের ভেতরেই একটা টোটো এসে দাঁড়াল আমাদের সামনে...

[তিন] Shushunia pahar

আমরা যখন শুশুনিয়া পাহাড়ের পায়ের তলায় এসে পৌঁছলাম তখন ভিড় অনেকটাই কমে এসেছে। পাথর খোদাইকারদের ভেতরেও বাড়ি ফেরার তাড়া। মাথার উপরকার মস্ত তেঁতুলগাছটার ডালে লাফালাফি করছে প্রচুর হনুমান। সকালের দিকে ওরা নিচেই থাকে। হাত বাড়িয়ে খাবার চেয়ে নিয়ে খায়। এক পাথর শিল্পীর দোকানের সামনে দাঁড়ালাম আমরা। কাতারে কাতারে নানান মাপের নানান দেবদেবীর মূর্তি সাজানো রয়েছে দোকানটায়। মূর্তিগুলোর দিকে এক দৃষ্টিতে তাকালে কেমন যেন অদ্ভুত একটা নেশা ধরে মনে। যেন কয়েক মিনিট আগেও জীবন্তছিল মূর্তিগুলো। আমাদেরকে দেখেই হয়তো পাথরের রূপ নিয়েছে।
‘চলো আগে প্রাচীন নরসিংহের মূর্তি আর জল ধারাটা দেখে আসবে।’
একটা মূর্তির দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়েছিল মিত্রা। আনমনা ভাবেই উত্তর দিল, ‘চলো দেখে আসি।’
নরসিংহের সামনের দুপায়ের মাঝ দিয়ে পাম্পের মতো ঝরছে জলের ধারা। আজও জানা যায়নি এই জলের উৎসমুখ কোথায়। কেউ জানে না কতশত বছর ধরে এভাবে জল পড়ছে। আগে নরসিংহের মুখ দিয়ে জল পড়ত। নানান পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে গিয়ে জল পড়ার মুখটা পাল্টাতে হয়েছে। আঁজলায় ভরে ভরে জল খেলাম আমরা। জল ভরে নিলাম বোতল দুটোতে। যেখান থেকে জলটা পড়ছে তার কিছুটা উপরেই একটা ছোট্ট আশ্রম। দুর্গা মন্দির। সন্ধা আরতির সময় হয়েছে এবার। বাতাসে ভুরভুর করে ভেসে আসছে ধূপের গন্ধ। সন্ধা আরতির সময় গাছের উপরকার হনুমানগুলোও শান্ত হয়ে বসে থাকে।
  এবার আমাদেরকে ফিরতে হবে। নতুবা ছাতনা যাওয়ার গাড়ি পাবো না আর। ‘তুমি কিছু কিনবে ?’ জিজ্ঞেস করলাম মিত্রাকে।
‘হ্যাঁ একটা মূর্তি কিনব।’
  মিত্রা আমাকে পিছনে রেখেই দ্রুত পা চালিয়ে আবার এসে দাঁড়াল সেই দোকানটার সামনেই। তারপর একটা ছোট্ট ‘শুশুনিয়া মূর্তি’কে তালু বন্দী করে জিজ্ঞেস করল, ‘কত দাম ?’
‘ওটা বিক্রির জন্য নয় মা। তুমি অন্য মূর্তিগুলোর থেকে বেছে নাও।’ ফ্যাকাসে মুখে কথাগুলো বললেন ভদ্রলোক।
‘এটা বিক্রি করবেন না কেন ? কেউ কি আগাম বায়না...’
‘না না আগাম-টাগাম নয়। ওটা বিক্রিই করব না। ওটা আমার মেয়ের হাতের তৈরি।’ লোকটার গলাটা ভারী হয়ে এসেছে এবার। দুচোখ জুড়ে যেন সন্ধা ঝাঁপিয়ে পড়ল হঠাৎ।
‘আপনার মেয়েও মূর্তি বানায় ?’
‘এখন আর বানায় না। ওই তোমার হাতের ‘ছোট্ট শুশুনিয়া পাহাড়’টাই শেষ বানিয়েছিল। এই শুশুনিয়া পাহাড়টাই যেন জীবন ছিল ওর। মাথার ক্যানসারে কে আর কবে বেঁচেছে। এগারো বছরের জীবন নিয়ে এসেছিল...’ জামার হাতায় চোখের জল মুছতে মুছতে আবার বলেন, ‘ওই মূর্তিটা সামনে রেখে কাজ করলে মনে হয় মেয়েটা চোখের সামনেই বসে আছে। তাই ওটা রোজ পকেটে করে নিয়ে আসি।’
মিত্রা কিছু বলতে গিয়েও বলতে পারে না। পাথরের মূর্তির মতো মুঠোয় শুশুনিয়া পাহাড়টা নিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে। আমার মুখেও যেন শব্দ ফুরিয়েছে। মিত্রার হয়তো ওর নয় বছরের বোন মিলির কথা মনে পড়ছে এখন। ওরও তো মাথাতেই বাসা বেঁধেছিল মৃত্যু। 
  গন্ধেশ্বরীর থেকে ছুটে আসা ঠাণ্ডা বাতাস পাহাড়ে ধাক্কা খেয়ে আমাদের তিনজনকে এলোমেলো করে দিচ্ছে এখন। আজ হয়তো আর ফেরাও হবে না। গ্রিন লজে থাকতে হবে। আমি জানি আজ বোনের স্মৃতিতে পাগলী ঝর্নার মতো সারারাত ঝরবে মিত্রা। আমাকে শুশুনিয়া পাহাড়ের মতো বুক পেতে দিতে হবে।    
Mukutmanipur er golpo porun     

আমরা এই ব্লগে ব্লগিং করার সহজ উপায় শিখিয়ে থাকি। আপনার ইচ্ছে থাকলে আপনিও শিখতে পারেন। অনলাইন রোজগার করতে ব্লগের বিকল্প নেই।

 কেন ব্লগিং করবেন দেখুন
                  

No comments:

Post a Comment