কীভাবে ব্লগিং শুরু করব?

সহজেই ব্লগিং শুরু করুন



দীর্ঘদিন আমি সাহিত্য রচনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছি। কিন্তু আমার ব্যক্তিগত ভাবে মনে হয়েছে ২০২৫ এর ভেতর এই সব পত্রপত্রিকার কদর অনেক কমে যাবে।
দিন দিন বড় পত্রপত্রিকা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এমনকি উনিশকুড়ির মতো পত্রিকাও বন্ধ হয়ে গেছে।
আমি কম হলেও ২০০ বেশি (আনন্দবাজার, দেশ সহ) পত্রপত্রিকায় গল্প উপন্যাস কবিতা লিখেছি। দুই দেশ মিলিয়ে আমার প্রকাশিত বই এর সংখ্যা সাত।
২০১৭ সাল থেকে আমি সমস্ত সাহিত্যিকদেরকে অনুরোধ করতে শুরু করি ব্লগিং করার জন্য। অনেকেই এগিয়ে এসেছেন। অনেকের ব্লগ আমি নিজেই বানিয়ে দিয়েছি।
অনেকেই এই বিষয়টাকে পত্রপত্রিকার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা বলে ধরে নিয়েছেন। কিন্তু এটা বিদ্রোহ নয়। সময় এবং সমাজের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা মাত্র। আমি মনে করি যারা লিখতে পারেন তাদের অবশ্যই ব্লগিং করা উচিৎ।
পাঠক কমেনি, পাঠক বই কেনা পত্রিকা কেনা কমিয়ে দিয়ে অনলাইন পড়া শুরু করেছে। আজও অনলাইনে ভাল লেখার অভাব আছে, তাই আপনাদের উচিৎ এগিয়ে আসা।

 কীভাবে ব্লগিং শুরু করতে পারি?


আপনি ব্লগারে বা ওয়ার্ডপ্রেসে ফ্রিতেই ব্লগিং শুরু করতে পারেন।
ব্লগিং করার প্রথম সর্ত হল, লিখতে পারা। ব্লগিং করার প্রধান অস্ত্র হল, লিখতে ভালবাসা।
আপনি যদি লিখতে পারেন আর লিখতে ভালবাসেন তাহলে তিন মাসের ভেতর আপনি ভালভাবে ব্লগিং শিখে যাবেন।
ব্লগিং এ প্রচুর খুঁটিনাটি বিষয় আছে, যা জানলে বা শুনলে আপনার প্রথমেই মনে হবে ব্লগিং করা বেশ কঠিন। আচ্ছা যারা ফেসবুক সম্পর্কে কিছুই জানে না, তাদের কাছে ফেসবুক করাটা কী সহজ?
তারাও খুঁজে পায় না কী করব, কী করব না। আস্তে আস্তে তারাও সব শিখে যায়।
ব্লগিং শুরু করুন, দেখবেন আস্তে আস্তে সব শিখতে পারবেন। ২০১৫ তে আমি ব্লগিং শুরু করেছিলাম। তখন আমার জ্ঞানছিল অন্ধের আকাশ দেখার মতো। ২০১৭ থেকে ভালভাবে ব্লগিং শুরু করি।
আজকে আমার ব্লগ অনেকগুলো, ভিজিটর প্রতিমাসে ১৫০০০০ বেশি আসে। পুরোটাই অর্গানিক। দিনে আয় হয় ৮-১৩ ডলারের কাছাকাছি।
ব্লগিং সম্পর্কে খুঁটিনাটি জানুন এখানে
আপনার পরের প্রশ্নছিল কোন বিষয়ে ব্লগিং করলে সফলতা পাওয়া সম্ভব?
আপনি যে বিষয় ভাল জানেন সেই সেই বিষয়ে ব্লগিং করুন।
আপনার তেমন ধারণা নেই অথচ প্রফিট বেশি হবে ভেবে যদি ব্লগিং শুরু করেন তাহলে কয়েক মাসের ভেতর আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। তাই নিজের পছন্দের বিষয়ে ব্লগিং করুন।
আমি জানি ইনসুরেন্সের উপর ব্লগিং করলে আয় অনেক বেশি হবে। কিন্তু আমি এটাও জানি ইনসুরেন্সের উপর ক্রমাগত ব্লগিং করা এবং সেই ব্লগপোস্টকে গুগল সার্চের টপে আনা প্রায় অসম্ভব (আমার পক্ষে)।
তাই বিষয় নির্বাচনের সময় নিজের পছন্দকে প্রধান্য দিন। সাফল্য অনেক দ্রুত আসবে।
নতুন ব্লগারদের জন্য বেস্ট টপিক
ব্লগিং করতে গিয়ে কোথাও কোনও সমস্যা হলে আমার মতো অনেকেই আছেন যারা সাহায্য করবেন। আপনার ব্লগিং যাত্রা শুভ হোক।

একটি ব্লগে কবে থেকে আয় শুরু হয়? 

🤑 আহা কেমন যেন টাকা টাকা গন্ধ পাচ্ছি 🤑
টাকা মাটি মাটি টাকা….
না কাজের কথায় আসি।
মানে আপনি আয় করতে ব্লগিং করতে চাইছেন এটা ধরেই নিলাম। ভাল কথা, এতে দোষের কিছুই নেই।
কিন্তু কবে আয় শুরু হবে আর কত আয় হবে সেটা আপনার উপর নির্ভর করবে।
যদি নিয়মিত সঠিক পথ মেনে ব্লগিং করেন তাহলে দুমাসের ভেতর একটু হলেও টাকার গন্ধ পাবেন। টাকার গন্ধ মানে টাকা নয়, এটা মাথায় রাখতে হবে।
এই গন্ধকে ভালবেসে যদি কাজে আরও বেশি মনযোগী হন তাহলে চার মাসের ভেতরেই টাকা দেখতে পাবেন।
ব্লগিং কিন্তু ভালবাসার বিষয়। গাফিলতি করলেই ফুড়ুৎ হয়ে যাবে। মানে টাকাটা মাটি হয়ে যাবে। ডোমেইন হোস্টিং সব জলে যাবে।
আমার বর্তমানে অনেকগুলি ব্লগ আছে। ভিজিটর কমবেশি ২ লাখ প্রতিমাসে, প্রায় পুরোটাই গুগল সার্চ থেকে আসে। আয় হয় ৩০০ ডলারের কিছু বেশি কিন্তু এখনো কোনও মাসে ৪০০ ডলার হয় নি।
এবার আসি আসল কাজের কথায়
  • নিয়মিত লিখবেন
  • গুগল সার্চ কনশোন প্লাস বিং দুটোতেই সাইটম্যাপ দেবেন
  • কিওয়ার্ড সার্চ করে লিখবেন
  • নিজের পছন্দের টপিকে লো কম্পিডিশন কিওয়ার্ড খুঁজে কাজ করবেন, লংটেল কিওয়ার্ড বেস্ট।
  • এস ই ও অবশ্যই করবেন
  • সোশাল সেয়ার করবেন
  • ব্যাকলিংক বানাবেন নিঁখুত ভাবে
  • ব্লগে টপিকের বাইরে ফালতু গল্প লিখবেন না
  • ব্লগে অবশ্যই চ্যাটিং অপশন রাখবেন
  • ভুল তথ্য মোটেও দেবেন না
  • লেখা বা ছবি একটিও যেন অন্যের না হয়। নিজে লিখবেন। ছবি ক্যানভায় বা অন্যকিছু দিয়ে নিজেই বানাবেন।
  • ছবিতেও এস ই ও করবেন, ছবির উপরে খুব ছোট করে নিজের ব্লগের নাম ব্যবহার করবেন।
হতাশ না হয়ে কাজ করুন ছয় মাস পর রেজাল্ট হাতে হাতে পাবেন। শুভেচ্ছা ও ভালবাসা রইল।
বাংলাব্লগার.ইন

No comments:

Post a comment